পড়াশোনা

ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যয় যোগ্য আয় এর মধ্যে পার্থক্য কি?

প্রিয় বন্ধুরা, আজকে আমি আপনার সাথে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তো আমরা বিভিন্ন সময়ে শুনে থাকি যে ব্যক্তিগত আয় এবং যোগ্য আয় এর কথা। আর যখন আমরা এই শব্দ গুলো প্রথম শুনি। তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, এই ব্যক্তিগত আয় কাকে বলে। এবং এই ব্যয় যোগ্য আয় কাকে বলে। আবার আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা মূলত এই ব্যক্তিগত আয় ও ব্যয়যোগ্য আয়ের পার্থক্য খুঁজে থাকেন। তো আপনিও যদি এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে থাকেন। তাহলে আপনি একবারে সঠিক জায়গা তে চলে এসেছেন। 

কারণ আজকে আমি আপনাকে এই দুটো বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। সেই সাথে ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যয় যোগ্য আয় এর মধ্যে পার্থক্য কে খুব সহজ ভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব। আর আপনি যদি সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে আজকের পুরো আলোচনা টি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। তাহলে আর দেরি না করে চলুন সরাসরি মূল আলোচনা তে ফিরে যাওয়া যাক। এবং ব্যক্তিগত আয় ও ব্যায় যোগ্য আয়ের পার্থক্য জেনে নেওয়া যাক।

ব্যক্তিগত আয় কাকে বলে?

সহজ কথায় বলতে গেলে কোন একজন ব্যক্তি যে পরিমাণ টাকা আয় করবে। তখন সেই আয় করা টাকার পরিমান কে বলা হবে উক্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত আয়। তবে এই আয়ের পরিমান তখনই হিসাব করা হবে। যখন তিনি গত এক বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ আয় করবেন। আর সেই আয় করা মোট অংকের টাকার পরিমান কে বলা হবে, ব্যক্তিগত আয়। তবে ব্যয় যোগ্য আয় এর ক্ষেত্রে আপনি একটু হলেও ভিন্নতা লক্ষ্য করতে পারবেন। চলুন এবার তাহলে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ব্যায় যোগ্য আয় কাকে বলে?

উপরের আলোচনা থেকে আপনি ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রে জানতে পেরেছেন যে। কোনো একজন ব্যক্তির মোট আয় করার পরিমাণ কে বলা হয় থাকে ব্যক্তিগত আয়। কিন্তু ব্যয়যোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার মোট আয় করা অর্থের যতটুকু ভোগ করতে পারবেন। সেই ভোগ কৃত অর্থের পরিমাণকে বলা হয়ে থাকে ব্যয় যোগ্য আয়। যেমন ধরুন, একজন চাকরিজীবী ব্যক্তি প্রতি বছরের ২০ লক্ষ টাকা ইনকাম করে। এখন সেই ব্যক্তি সরকারের যাবতীয় ট্যাক্স, ভ্যাট, কর দেওয়ার পরে। যে পরিমাণ অর্থ নিজের জন্য ব্যয় করতে পারবে। তাকে বলা হয়ে থাকে, ব্যয় যোগ্য আয়।

ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যায় যোগ্য আয়ের মধ্যে পার্থক্য

উপরের আলোচনা থেকে আপনি ব্যক্তিগত আয়। এবং ব্যয় যোগ্য আয় কাকে বলে সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তো এবার আমি আপনাকে ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যায় যোগ্য আয়ের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জানিয়ে দিব।

  • কোন একজন ব্যক্তি সে মোট যে পরিমাণ টাকা আয় করবে। তাকে বলা হয় থাকে ব্যক্তিগত আয়। এবং 
  • কোন একজন ব্যক্তি যাবতীয় কর দেওয়ার পরে যে পরিমাণ অর্থ ভোগ করতে পারবেন। তাকে বলা হয়ে থাকে, ব্যয় যোগ্য আয়।
  • সামগ্রিক দিক থেকে ব্যক্তিগত আয় হল বিরাট একটি ধারণার উৎস। অপর দিকে ব্যয় যোগ্য আয় হল সামগ্রিক দিক থেকে স্বল্প ধারণার সমতুল্য।
  • একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত আয়ের কতটুকু ভোগ করতে পারবে। তা মূলত নির্ধারণ করা করতে পারে না।
  • কিন্তু একজন ব্যক্তি তার ব্যয় যোগ্য আয়ের কতটুকু ভোগ ও বিনিয়োগ করতে পারবে তা নির্ধারণ করতে পারে।
  • এর পাশাপাশি কোন একজন ব্যক্তি তার মোট ব্যক্তি গত আয় থেকে কতটুকু ক্রয় ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন। তা নির্ধারণ করতে পারেন না।
  • তবে সেই ব্যক্তি তার ব্যয় যোগ্য আয় থেকে কি পরিমাণ ক্রয় ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন। তা খুব সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন।

তো ব্যক্তিগত আয় এবং ব্যয় যোগ্য আয়ের মধ্যে পার্থক্য গুলো কে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি এই উল্লেখিত আলোচনা থেকে উক্ত বিষয়ে থাকা পার্থক্য গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button